নিছক গল্প নয়, কাজের কথা। অর্গ্যানিক ফার্মিং

ভাইরাস ও দূষণের গ্রাস থেকে বাঁচতে, নানা রকম উপায় সম্পর্কে কথা হলে, সর্বপ্রথম উঠে আসে অর্গ্যানিক ফার্মিং এর প্রসঙ্গ। যারা বাগান করতে ভালোবাসেন, তাঁদের আলোচনায় আলোচিত হয় অর্গ্যানিক ফার্মিং বিষয়ক নানা প্রসঙ্গ। সৌভাগ্যক্রমে, আমি এমনই একটি অর্গ্যানিক ফার্ম নিজে তৈরি করেছি।
পুরুলিয়াতে অবস্থিত আমার এই অর্গ্যানিক ফার্ম আমায় প্রতিনিয়ত জীবন দর্শনের পাঠ পড়ায়। শুধুমাত্র সবুজের ভিড় আর বিভিন্ন জন্তুদের সান্নিধ্য নয়, আমি এখানে চাক্ষুষ করি জীবন। হয় তো খুব বড় ঘটনা বলে বিবেচিত হবেনা অন্যদের কাছে, কিন্তু আজই, আমি দেখলাম এক সাধারন প্রাণীর মা হয়ে ওঠা।

গুজরাট থেকে আনিয়ে ছিলাম একটি গির গাই। ছোট্ট প্রানীটির সুড়কির মতো লাল গায়ের রং তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো সকলকে। সেই চতুস্পদ যত্নে লালিত হয় আমাদের এই বাংলার রাঙামাটিতে।সেই ছোট্ট গাভী টি আজ জন্ম দিয়েছে ঠিক তারই মতোন সুন্দর একটি বাছুরের।
সন্তান ধারন ও তাকে জন্ম দেওয়ার ধকলে কিছুটা কাহিল হলেও, সে আঁকড়ে রইলো তার সদ্যোজাত কে। পরম মমতায় তার গা চেটে পরিস্কার করে তাকে আরও নিজের করে নিলো যেন। গ্রাম বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এই দৃশ্য হয় তো খুবই চেনা। তবু আমার শহুরে জীবনে, রোজ ইঁট, কাঠ আর কংক্রিট দেখা চোখের কাছে, এই দৃশ্যের গুরুত্ব সীমাহীন।
এমন অনন্য অভিজ্ঞতা আমায় নতুন করে দেখালো জীবনের লালন। খাঁটি মমতার নিদর্শন রাখলো একটি অবলা প্রাণী। বুঝলাম,অর্গ্যানিক ফার্মিং আমায় শুধুমাত্র শাক, সব্জি বা বিভিন্ন পশু পালন সম্পর্কে সমৃদ্ধ করেছে তা নয়। আমার সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে মহাবিশ্বের সব থেকে সহজ সত্যের সাথে, যার নাম সৃষ্টি।

Spread the love
Post by admin

Leave a Reply

Your email address will not be published.